এই শহরে বসন্ত এসেছে

কংক্রিটের ফাঁকে ফাঁকে অযত্নে বেড়ে ওঠা
বেয়াড়া সবুজ ধুলায় ধূসর,
নতুন মুকুলে ভরে আছে আমের শাখারা –
তবু ঘ্রাণ ছড়ায় না,
বিদ্যুতের তার জুড়ে সারি বাঁধা কাকের
দৃষ্টিতে আস্তাকুঁড়।

শহরটা মৃত্যু যন্ত্রণায় একই রকম গোমরায় –
ব্যস্ততার ভেঁপু, অসহিষ্ণু পথিকের আস্ফালন,
বস্তির গলি থেকে ভেসে আসা খিস্তিতে।
এই শহরে আজ বসন্ত এসেছে।

ফুলের আড়তদার বেলির বদলে
গাঁদার ঝুড়ি নামায়,
রঙ জ্বলে যাওয়া হলুদ পাঞ্জাবীর
এক বালক মালা কেনে
সদ্য কৈশোরের প্রথম শাড়ি পরা
কোনও বালিকার জন্য।

চৈত্রের রোদে শাহবাগের রাস্তায়
দ্বিগুণ দামে কুলফি কেনে ভীরু প্রেমিক,
ঘামে ভিজে রিকশা খোঁজে মরিয়া হয়ে।
এই শহরে আজ বসন্ত এসেছে।

আমি বরং অপেক্ষায় থাকি আগামী বর্ষার,
হাঁটু জলে ডুবে যাবে মিরপুর থেকে পল্টন,
হুড-তোলা রিকশায় জড়সড় প্রেম,
ধূসর ধুলো ঝেড়ে ফুটপাথের মৃতপ্রায় ঝাউঝোপ আবার সতেজ,
জানালার কার্নিশে চুপসানো চড়ুই
আর অজানা গলি থেকে কদমের উন্মাদ গন্ধ।

শ্যাওলা ধরা ভাঙা দেয়ালে বসে
সেদিন আমি বরং দেখবো
বৃষ্টি স্নানে এই বেজন্মা শহরটাকেও
কেমন পবিত্র মনে হয়।

ধূসর হতাশাগুলো

১।

শুক্রবার দুপুরে শিশুমেলার কাছে রাস্তা পার হওয়ার সময় থমকে দাঁড়াতে হল। ডিভাইডারের উপরে নোংরায় মাখামাখি হয়ে একটা বাচ্চা ছেলে পড়ে আছে। দেখে মনে হচ্ছিল মৃত! কত হবে বয়স? ১২ বা ১৩! শরীরে হাড় আর চামড়া ছাড়া কিছু অবশিষ্ট নেই। কি হয়েছিল ছেলেটার? চুরি করতে গিয়ে মার খেয়েছে? কিন্তু তাহলে তো এতক্ষণে পুলিশের নিয়ে যাওয়ার কথা! কাছে গিয়ে বুঝতে পারলাম এখনো বেঁচে আছে। কিন্তু দেখে মনে হচ্ছে না বেশিক্ষণ থাকবে।

শত শত লোক পার হয়ে যাচ্ছে। জুম্মার নামাজে যাচ্ছে অনেকেই। কিন্তু ফিরেও তাকাচ্ছে না কেউ! এমন নোংরার দিকে তাকলেও সম্ভবত ওযু ভেঙ্গে যাবে। তাই সবাই অন্যদিকে ফিরে জায়গাটা পেরিয়ে যাচ্ছে। বেহেস্তের রাস্তা পরিষ্কার করতে হবে তো!

কেন যেন পারলাম না এড়িয়ে চলে যেতে। ধরে ধরে রাস্তার পাশে নিয়ে বসালাম। এমন পরিস্থিতিতে কি করতে হয় জানা নেই। হেঁটে যাওয়া মানুষদের দৃষ্টি দেখে মনে হল আমাকে এখুনি কোন মানসিক হাসপাতালে পাঠানো দরকার। একটা চা-এর দোকান খোলা পেয়ে সেখান থেকে একটা রুটি আর কলা কিনে নিলাম। সাথে এক বোতল পানি। ১০মিনিট পরে মনে হল এযাত্রা বেঁচে যাবে ছেলেটা। কেমন যেন অবাক একটা চোখে তাকিয়ে থাকল আমার দিকে। আর কি ছিল সেই চোখে? ঘৃণা? এই নষ্ট হয়ে যাওয়া সমাজের প্রতি? সেই দৃষ্টির সামনে বেশিক্ষণ বশে থাকা সম্ভব ছিল না। আরও কিছু বিস্কিট কিনে দিয়ে চলে আসলাম। জানিনা ছেলেটার শেষ পর্যন্ত কি হয়েছিল।

আবার নিজের কাজে ব্যস্ত হওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু কেন যেন সেই অদ্ভুত দৃষ্টিটা ভুলতে পারি না। দম বন্ধ মনে হয়। কিছু একটা করার জন্য হাসফাস করি।
শিশুদের নিয়ে কাজ করছে এমন কিছু এনজিওর সাইটে ঢুঁ মারি। মাত্র ২০০০ টাকা লাগে একটা ছোট বাচ্চাকে স্পন্সর করতে [, , ]!! অবাক হয়ে ভাবি আর কতদিন লাগবে পথ-শিশু শব্দটাকে অভিধান থেকে বাদ দিতে?

২।
পৃথিবীর সবচেয়ে নাজুক ধর্মানুভূতি সম্ভবত মুসলমানদের। পৃথিবীর আরেক প্রান্তে কেউ হাঁচি দিলেও আমাদের ধর্মানুভূতি আহত হয়।
টিভির খবরে দেখি দাড়িওয়ালা এক ভদ্রলোক বলছেন যে “ইনোসেন্ট মুসলিম” ভিডিওটা না সরানো পর্যন্ত ইউটিউব বাংলাদেশে বন্ধ থাকবে []। পর্দার নিচের দিকে তাকিয়ে দেখতে পাই ইনি আমাদের বিটিআরসি-র চেয়ারম্যান। উনার কথাবার্তা আর জ্ঞানের বহর দেখে অবাক হই। নীতি নির্ধারকদের এই অবস্থা হলে তাঁদের কাছ থেকে এরচেয়ে ভালো কিছু আর আশা করা যায় না। রাস্তায় লাঠি নিয়ে হাঙ্গামা করা মাদ্রাসার ছাত্রদের সাথে উনার একমাত্র পার্থক্য সম্ভবত এই যে উনার একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট আছে।
নিজের ভেতরে শুধুই হতাশা বাড়তে থাকে।

৩।
হঠাৎ করেই শুনতে পাই রামুতে বৌদ্ধদের উপরে হামলা চালিয়ে ঘরবাড়ি, মন্দির সব জ্বালিয়ে দিচ্ছে কিছু ধর্মান্ধ উন্মাদ! খবরের কাগজ আর টিভির রিপোর্ট দেখে কিছু বলার ভাষা হারিয়ে ফেলি। কি হচ্ছে আমাদের দেশে? কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে বসে থাকি। খবরে জানা যায় এই হামলা নাকি পূর্বপরিকল্পিত! ভাবি কি দরকার আমাদের ট্যাক্সের টাকায় এত এত গোয়েন্দা বাহিনী পুষে রাখার?
জানি কিছুই হবে না। আমরা নিউজ চ্যানেল পাল্টে টি২০-এর স্কোর দেখি। মা**** পাকিস্তানিদের ছক্কা হাঁকানো দেখে খুশি হয়ে উঠি। আমরা সভ্য মানুষ হয়ে ওঠার চেষ্টা করি। ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে হলে কিছু অতীত তো বিসর্জন দিতেই হবে তাই না []!

৪।
চট্টগ্রামে হাসপাতালের পাঁচ তলা থেকে রোগীর আত্মীয়কে ফেলে দেয় কর্মচারীরা []। অবাক হই না আর। বুঝে যাই সভ্য মানুষ হতে হলে চোখ বন্ধ করে বাঁচতে শিখতে হবে।

কিছুই ভালো লাগে না। চারিদিক ধূসর মনে হয়। এতেই অভ্যস্ত হওয়ার চেষ্টা করি। শুধু মাঝে মাঝে খুব দমবন্ধ লাগে। মনে হয় একটু যদি সত্যিকারের মানুষের মত খোলা হাওয়ায় শ্বাস নিতে পারতাম!! অন্তত একটি বার।


পূর্ব প্রকাশ

এই লেখাটা কাশফিয়ার জন্য

আজ হঠাৎ করেই বহুদিন আগের একটা ঘটনা মনে পড়ে গেল। মনে হল যেন বহুযুগ আগের ঘটনা।

কোন একটা কাজে আমি আর সিম্মি আরেক বন্ধু কাশফিয়ার বাসায় গিয়েছি। বিকালের দিকে কাশফিয়াকে একটু বের হতে হবে। সম্ভবত একটা ভোল্টমিটার বা এরকম কিছু কেনার জন্য। ওর সাথে আমিও বের হলাম। হাতিরপুল থেকে হাঁটতে হাঁটতে সায়েন্সল্যাব পর্যন্ত গিয়েও কোন দোকানে পাওয়া গেল না। হাঁটা হাঁটি আর জিনিসটা না পাওয়ায় কাশফিয়ার প্রচন্ড মেজাজ খারাপ। ফিরে আসার জন্য ঘুরেই দেখি একটা ফেরিওয়ালা দারুণ বরই নিয়ে বসে আছে। ব্যস কোন চিন্তা ভাবনা ছাড়াই এক কেজি বরই কিনে ফেললাম।

কিছুক্ষন পর দেখা গেল একটা রিকশায় একটা ছেলে আর একটা মেয়ে বসে আছে। মেয়েটা প্রচন্ড মেজাজ খারাপ করে একটা বিশাল কাগজের প্যাকেট ধরে আছে, আর ছেলেটা মহা আনন্দে পা নাচাচ্ছে আর প্যাকেট থেকে একটা একটা করে বরই বের করে মুখে ফেলছে। মেয়েটা মাঝে মাঝে খুবই বিরক্ত চোখে ছেলেটার দিকে তাকাচ্ছে।

দৃশ্যটা নিশ্চই খুবই হাস্যকর ছিল!!

Miss you সোনাপাখি, my dearest ‘ex’-best friend (এই নামটাও তোরই দেওয়া)। Miss all the fun, the gang, the 29 game, the fights… miss the good old days…

মাথার ভেতরে জন ডেনভার

হঠাৎ রাতে ঘুম ভেঙে যায়। বারান্দার দরজাটার বাইরেই প্রচন্ড ঝড়ের তান্ডব। কংক্রিটের শহরে ঝড় বৃষ্টি সাধারণত তেমন একটা বোঝা যায় না। কিন্তু এই রাতের দ্বিতীয় প্রহরে দরজায় বাতাসের শব্দ আর হঠাৎ ঠান্ডা হয়ে যাওয়া ঘর থেকে ভালই বোঝা যায় ঝড়ের প্রচন্ডতা।

খুব ইচ্ছে করে উঠে বারান্দার দরজাটা খুলতে। ছুঁয়ে দেখতে ইচ্ছে করে বৃষ্টির অবিরাম ধারা।
কিন্তু কি যেন কি হয়! বৃষ্টি হলেই যে আচ্ছন্ন হয়ে যাই।

বাইরে বৃষ্টিধারা বয়ে যায় অবিরাম। বৃথাই চেষ্টা করে যায় তোমাকে ভুলিয়ে দিতে। মাথার ভেতরে জন ডেনভার নিয়ে হারিয়ে যাই, তোমারই ভাবনায়।

 

সারমেয় শাবক

সবকিছুই কেমন অদ্ভুত লাগে! ছাড়া ছাড়া… ফাঁপা সবকিছুই।
কিছু অতিজ্ঞানী(!) বলেন, সমাজ মানুষের জন্য; মানুষ সমাজের জন্য না। — এরকমই কিছু একটা। বিভিন্ন জনের বিভিন্ন ভার্সন আছে। কিন্তু আসলেই কি তাই? প্রতিটা পা ফেলতে গিয়েই তো শিখছি কিভাবে চারপাশটা আমাকে বেঁধে রেখেছে।

একটা ঘুমকুমার হঠাৎ করে হারিয়ে গেলে কারও কিছুই হবে না। কিন্তু সমাজ ঠিকই টিকে থাকবে। আচ্ছা, আমি থাকা বা না থাকায় যদি চারপাশের কিছু না যায় আসে, তাহলে আমি কেন সমাজের “খ্যাতা” পুড়ব বসে বসে?! যা ব্যাটা, পুড়লাম না…।

ছিঃ এসব বলে না। ভাল ছেলেরা এমন করে না!
আচ্ছা, ভাল ছেলের সংজ্ঞা কি? সেটা দিলই বা কে? হুম! যার “খ্যাতা” ও পুড়ি না, তার দেওয়া সংজ্ঞা মেনে চলতে হবে নাকি?!

আজাইরা প্যাঁচাল দূরে… এখন “ভাল” ছেলের মত ব্লগ লেখা।
প্রথমে শর্ত সমূহঃ
১। ভাল ছেলে হিসেবে কোন গালি দেওয়া যাবে না।
২। কারও অন্তরে আঘাত দিয়ে কথা বলা যাবে না।
৩। অশুদ্ধ ভাষায় কিছু বলা যাবে না।
৪। অশ্লীল শব্দ উচ্চারণ করা যাবে না।

ওকে…

বিষন্নতাঃ
শীতকাল এমনিতেই একটু অলস। হাত-পা নাড়াতে কষ্ট। মনের মধ্যে কেমন যেন শ্যাঁতশ্যাতে বিষন্নতা ভর করে। সবকিছুর মধ্যেই মন খারাপের খোরাক পাওয়া যায় মনে হয়। আর চারদিকে অশান্তি তো আছেই।
প্রতিটা বিশ্ববিদ্যালয়ে মারামারি, ভাংচুর, খুনাখুনি লেগেই আছে! বুঝি না কিভাবে একজন মানুষ আরেকজনের উপরে এতটা নিষ্ঠুর ভাবে চড়াও হতে পারে। নিজের সহপাঠি, তাকে যতই ঘৃণা করি… কিভাবে সম্ভব। বহুদিন আগে একবার লিখেছিলাম যে, সব বুড়োগুলোর যাওয়ার সময় হয়েছে। আমাদের প্রজন্ম সবকিছু বদলে দেবে। কিন্তু এখন আর সেই স্বপ্ন দেখি না। এই বুড়োগুলো আমাদের প্রজন্মটা কেও ধ্বংস করে দিয়ে গেল। “খ্যাতা” পুড়ি তোদের মড়া খেকো বুড়োর দল…!! (১ম শর্ত ভঙ্গ করলাম নাকি?)

হতাশাঃ
সকালের ঘুমগুলো আজকাল একটু লম্বাই হচ্ছে। সম্ভবত এটাও শীতের প্রভাব। কিন্তু আজকাল ঘুমের মধ্যে আর কোন স্বপ্ন দেখি না। শুধুই দুঃস্বপ্ন। আসলে মস্তিস্কের স্বপ্ন দেখার অংশটা শর্টসার্কিট হয়ে গেছে। একই লুপে পড়ে গেছে!
রিফ্রেসমেন্ট দরকার। আমাদের সুন্দর নদীর পাড়ের গ্রামের বাড়িতে যেতে ইচ্ছে করে। মাঝরাতে একা একা হেঁটে চলে যাব নদীর পাড়ে। ভূত গুলো আমার ভয়ে গাছের আগায় চড়বে। কিন্তু যাওয়াটাই তো কষ্ট। এতটা লম্বা পথ, আর এত খারাপ রাস্তা।
এখানে না একটা ব্রিজ হওয়ার কথা আছে। ব্রিজটা হলেই মাত্র ৪ঘন্টায় বাড়ি পৌঁছে যাব। হবে কোন একদিন। তবে এখন আর আশা করি না। কোন একদিন সকালে উঠে যদি দেখি কাজ শেষ হয়েছে (শুরু না কিন্তু) তারপরও ভয় থেকে যাবে, কখন ফাঁটল দেখা দেয়।
সব আশা গুলোই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। হতাশায় পরিণত হচ্ছে শুধু মাত্র অল্প কিছু মানুষের (নাকি জানোয়ারের) সর্বগ্রাসী লোভের কারণে। কি আর করা? খেতে থাক। দেখি কত খেতে পারিস। কত টাকায় তোদের টাকার ক্ষুদা মেটে এটাও একটু দেখি। কিন্তু জেনে রাখিস শয়তানের দল, এই টাকা নিয়ে কবরে যাবি না… আর আমি জানি একটা দিন আসবে যখন সব মানুষের স্বপ্নগুলোকে হত্যা করার দায়ে তোদের শাস্তি হবেই। জানিনা এই জন্মে দেখে যেতে পারব কিনা, কিন্তু জানি তোদের কবরে কুত্তাও “ইয়ে” করতে যাবে না। (হুম… ২য় শর্তও ভঙ্গ মনে হচ্ছে।)

অবিশ্বাসঃ
মানুষের উপর থেকে বিশ্বাস উঠে যাচ্ছে দিন দিন। একটা সময় ছিল যখন চেষ্টা করতাম সব কিছু থেকেই একটা “পজিটিভ” মানে বের করে আনতে। কিন্তু অনেক ঠেকে শিখলাম, সবাইকে যুক্তি দিয়েই যাচাই করতে হবে। বিশ্বাস, আস্থা এসব শুধু বাংলা একাডেমির অভিধানেই পাওয়া যায়। আর কোথাও না।
মানুষের মধ্যে থেকে মূল্যবোধ ব্যপারটাই উঠে গেছে। সবাই স্বার্থপর (আমিও)।
“হুদাই এইসব দুই ঠ্যাং ওয়ালা বান্দরের দলরে বিশ্বাস কইরা কোন ফায়দা নাই। এই বান্দর গুলা চান্স পাইলেই পিঠের মধ্যে ছুরি ঢুকায় দিব।”
এই চুড়ান্ত অবক্ষয়ের দায় কে নিবে? মূল্যবোধ গুলো যদি শুরু থেকেই না থাকত তাহলে বাংলা একাডেমি কি শব্দগুলো আসমানে পাইছে? না ওহি নাযিল হইছিল ওদের উপর?
আর এই অবিশ্বস্ত, মূল্যবোধহীন প্রজন্ম দেশ বদলাবে? “পাগল পাইছনি আমারে?” (৩য় শর্ত?)

আই-ওয়াশঃ
অবশেষে গোলাম আজম জেলে গেছে। সাবাশ?!
আসলে এখানে সাবাশ বলার কিছু নাই। এটা আমাদের লজ্জা যে এই সব বেজন্মার দল, বেশ্যার বাচ্চা গুলো (দুঃখিত এই রাজাকের মাদের প্রতি, কিন্তু তাদের সন্তানরা এতটাই নীচ যে যাচাই করে গালি দেওয়া সম্ভব না) এতদিন বুক ফুলিয়ে রাস্তায় ঘুরে বেড়িয়েছে। আর ঘৃণা এদের তাবেদার সেই সব নব্য রাজাকারদের যারা চোখ বুজে, আর নিজের মাথার ভিতরের ধুসর পদার্থটা কে বাসার শো-কেসে সাজিয়ে রেখে এদের সমর্থন দেয়।
কিন্তু এই অসুস্থ সময়ে এসে ভয় হয়! এটাও শুধু আই-ওয়াশ নয় তো? শুধু একটা লোক দেখানো ব্যপার। যদি তাই হয় তাহলে এই হতাশার রাজ্যে আর কোথাও একটু বুক ভরে স্বাস নেওয়ার জায়গা থাকবে না! (৪নং শর্তও হয়ত ভঙ্গ হল। কিন্তু এই সব নাপুংসকদের গালি দেওয়ার জন্য সভ্যতার মুখোশ পরতে আমি রাজি নই)

নাহ! ভাল ছেলে হয়ে থাকাটা খুবই কষ্টকর। বিশেষত এই অসুস্থ সময়ে। কিছুই ভাল লাগে না। চারদিকে তাকিয়ে চিৎকার করে শুধু গালি দিতে ইচ্ছে করে – “সারমেয় শাবক”!!