সারমেয় শাবক

সবকিছুই কেমন অদ্ভুত লাগে! ছাড়া ছাড়া… ফাঁপা সবকিছুই।
কিছু অতিজ্ঞানী(!) বলেন, সমাজ মানুষের জন্য; মানুষ সমাজের জন্য না। — এরকমই কিছু একটা। বিভিন্ন জনের বিভিন্ন ভার্সন আছে। কিন্তু আসলেই কি তাই? প্রতিটা পা ফেলতে গিয়েই তো শিখছি কিভাবে চারপাশটা আমাকে বেঁধে রেখেছে।

একটা ঘুমকুমার হঠাৎ করে হারিয়ে গেলে কারও কিছুই হবে না। কিন্তু সমাজ ঠিকই টিকে থাকবে। আচ্ছা, আমি থাকা বা না থাকায় যদি চারপাশের কিছু না যায় আসে, তাহলে আমি কেন সমাজের “খ্যাতা” পুড়ব বসে বসে?! যা ব্যাটা, পুড়লাম না…।

ছিঃ এসব বলে না। ভাল ছেলেরা এমন করে না!
আচ্ছা, ভাল ছেলের সংজ্ঞা কি? সেটা দিলই বা কে? হুম! যার “খ্যাতা” ও পুড়ি না, তার দেওয়া সংজ্ঞা মেনে চলতে হবে নাকি?!

আজাইরা প্যাঁচাল দূরে… এখন “ভাল” ছেলের মত ব্লগ লেখা।
প্রথমে শর্ত সমূহঃ
১। ভাল ছেলে হিসেবে কোন গালি দেওয়া যাবে না।
২। কারও অন্তরে আঘাত দিয়ে কথা বলা যাবে না।
৩। অশুদ্ধ ভাষায় কিছু বলা যাবে না।
৪। অশ্লীল শব্দ উচ্চারণ করা যাবে না।

ওকে…

বিষন্নতাঃ
শীতকাল এমনিতেই একটু অলস। হাত-পা নাড়াতে কষ্ট। মনের মধ্যে কেমন যেন শ্যাঁতশ্যাতে বিষন্নতা ভর করে। সবকিছুর মধ্যেই মন খারাপের খোরাক পাওয়া যায় মনে হয়। আর চারদিকে অশান্তি তো আছেই।
প্রতিটা বিশ্ববিদ্যালয়ে মারামারি, ভাংচুর, খুনাখুনি লেগেই আছে! বুঝি না কিভাবে একজন মানুষ আরেকজনের উপরে এতটা নিষ্ঠুর ভাবে চড়াও হতে পারে। নিজের সহপাঠি, তাকে যতই ঘৃণা করি… কিভাবে সম্ভব। বহুদিন আগে একবার লিখেছিলাম যে, সব বুড়োগুলোর যাওয়ার সময় হয়েছে। আমাদের প্রজন্ম সবকিছু বদলে দেবে। কিন্তু এখন আর সেই স্বপ্ন দেখি না। এই বুড়োগুলো আমাদের প্রজন্মটা কেও ধ্বংস করে দিয়ে গেল। “খ্যাতা” পুড়ি তোদের মড়া খেকো বুড়োর দল…!! (১ম শর্ত ভঙ্গ করলাম নাকি?)

হতাশাঃ
সকালের ঘুমগুলো আজকাল একটু লম্বাই হচ্ছে। সম্ভবত এটাও শীতের প্রভাব। কিন্তু আজকাল ঘুমের মধ্যে আর কোন স্বপ্ন দেখি না। শুধুই দুঃস্বপ্ন। আসলে মস্তিস্কের স্বপ্ন দেখার অংশটা শর্টসার্কিট হয়ে গেছে। একই লুপে পড়ে গেছে!
রিফ্রেসমেন্ট দরকার। আমাদের সুন্দর নদীর পাড়ের গ্রামের বাড়িতে যেতে ইচ্ছে করে। মাঝরাতে একা একা হেঁটে চলে যাব নদীর পাড়ে। ভূত গুলো আমার ভয়ে গাছের আগায় চড়বে। কিন্তু যাওয়াটাই তো কষ্ট। এতটা লম্বা পথ, আর এত খারাপ রাস্তা।
এখানে না একটা ব্রিজ হওয়ার কথা আছে। ব্রিজটা হলেই মাত্র ৪ঘন্টায় বাড়ি পৌঁছে যাব। হবে কোন একদিন। তবে এখন আর আশা করি না। কোন একদিন সকালে উঠে যদি দেখি কাজ শেষ হয়েছে (শুরু না কিন্তু) তারপরও ভয় থেকে যাবে, কখন ফাঁটল দেখা দেয়।
সব আশা গুলোই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। হতাশায় পরিণত হচ্ছে শুধু মাত্র অল্প কিছু মানুষের (নাকি জানোয়ারের) সর্বগ্রাসী লোভের কারণে। কি আর করা? খেতে থাক। দেখি কত খেতে পারিস। কত টাকায় তোদের টাকার ক্ষুদা মেটে এটাও একটু দেখি। কিন্তু জেনে রাখিস শয়তানের দল, এই টাকা নিয়ে কবরে যাবি না… আর আমি জানি একটা দিন আসবে যখন সব মানুষের স্বপ্নগুলোকে হত্যা করার দায়ে তোদের শাস্তি হবেই। জানিনা এই জন্মে দেখে যেতে পারব কিনা, কিন্তু জানি তোদের কবরে কুত্তাও “ইয়ে” করতে যাবে না। (হুম… ২য় শর্তও ভঙ্গ মনে হচ্ছে।)

অবিশ্বাসঃ
মানুষের উপর থেকে বিশ্বাস উঠে যাচ্ছে দিন দিন। একটা সময় ছিল যখন চেষ্টা করতাম সব কিছু থেকেই একটা “পজিটিভ” মানে বের করে আনতে। কিন্তু অনেক ঠেকে শিখলাম, সবাইকে যুক্তি দিয়েই যাচাই করতে হবে। বিশ্বাস, আস্থা এসব শুধু বাংলা একাডেমির অভিধানেই পাওয়া যায়। আর কোথাও না।
মানুষের মধ্যে থেকে মূল্যবোধ ব্যপারটাই উঠে গেছে। সবাই স্বার্থপর (আমিও)।
“হুদাই এইসব দুই ঠ্যাং ওয়ালা বান্দরের দলরে বিশ্বাস কইরা কোন ফায়দা নাই। এই বান্দর গুলা চান্স পাইলেই পিঠের মধ্যে ছুরি ঢুকায় দিব।”
এই চুড়ান্ত অবক্ষয়ের দায় কে নিবে? মূল্যবোধ গুলো যদি শুরু থেকেই না থাকত তাহলে বাংলা একাডেমি কি শব্দগুলো আসমানে পাইছে? না ওহি নাযিল হইছিল ওদের উপর?
আর এই অবিশ্বস্ত, মূল্যবোধহীন প্রজন্ম দেশ বদলাবে? “পাগল পাইছনি আমারে?” (৩য় শর্ত?)

আই-ওয়াশঃ
অবশেষে গোলাম আজম জেলে গেছে। সাবাশ?!
আসলে এখানে সাবাশ বলার কিছু নাই। এটা আমাদের লজ্জা যে এই সব বেজন্মার দল, বেশ্যার বাচ্চা গুলো (দুঃখিত এই রাজাকের মাদের প্রতি, কিন্তু তাদের সন্তানরা এতটাই নীচ যে যাচাই করে গালি দেওয়া সম্ভব না) এতদিন বুক ফুলিয়ে রাস্তায় ঘুরে বেড়িয়েছে। আর ঘৃণা এদের তাবেদার সেই সব নব্য রাজাকারদের যারা চোখ বুজে, আর নিজের মাথার ভিতরের ধুসর পদার্থটা কে বাসার শো-কেসে সাজিয়ে রেখে এদের সমর্থন দেয়।
কিন্তু এই অসুস্থ সময়ে এসে ভয় হয়! এটাও শুধু আই-ওয়াশ নয় তো? শুধু একটা লোক দেখানো ব্যপার। যদি তাই হয় তাহলে এই হতাশার রাজ্যে আর কোথাও একটু বুক ভরে স্বাস নেওয়ার জায়গা থাকবে না! (৪নং শর্তও হয়ত ভঙ্গ হল। কিন্তু এই সব নাপুংসকদের গালি দেওয়ার জন্য সভ্যতার মুখোশ পরতে আমি রাজি নই)

নাহ! ভাল ছেলে হয়ে থাকাটা খুবই কষ্টকর। বিশেষত এই অসুস্থ সময়ে। কিছুই ভাল লাগে না। চারদিকে তাকিয়ে চিৎকার করে শুধু গালি দিতে ইচ্ছে করে – “সারমেয় শাবক”!!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.